গণি মিয়ার খেতাব ও বিশুদ্ধ পানি Clean water by Nawab Khwaja Abdul Ghani

March 13, 2013

শামীম আমিনুর রহমান Source:  Prothom-Alo তারিখ: ২৪-০৫-২০১১

Water Works 1880আজ থেকে ঠিক ১৩৩ বছর আগে, এই দিনে ঢাকা মহানগরে চালু হয়েছিল বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা। ১৮৭৮ সালের ২৪ মে ঢাকার কমিশনার পিকক সাড়ম্বরে এর উদ্বোধন করেন। ঢাকাবাসীর সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য অর্থদানসহ সবিশেষ উদ্যোগ ছিল ঢাকার নবাব পরিবারের।
১৮৭১ সালে নবাব আবদুল গণি পেয়েছিলেন কেসিএমআই (কিং কমান্ডার অব দি অর্ডার অব দ্য স্টার অব ইন্ডিয়া) উপাধি। গণি মিয়া নামেই তিনি এলাকায় খ্যাত। খুশি হয়ে ঢাকাবাসীর জন্য কিছু একটা করার কথা ভাবছিলেন তিনি। উপাধি পাওয়ার আনন্দে ঢাকাবাসীর কল্যাণের জন্য দান করলেন ৫০ হাজার টাকা। উদ্দেশ্য ঢাকাবাসীর জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা। তাঁর এই অর্থের সঙ্গে পুত্র নবাব আহসানউল্লাহ যোগ করলেন আরও ৫০ হাজার টাকা। তবে ঢাকা প্রকাশ সূত্রে জানা যায়, ‘নবাব গণি জলের কলের জন্য ৩ বারে ২০০০০০ টাকা দান করেছিলেন।’ এর আগে ঢাকাবাসীর পানীয় জলের উৎস ছিল শুধু মহল্লার পুকুর বা কুয়া। বিশুদ্ধ পানির অভাবে ঢাকায় উদরাময়, কলেরাসহ নানা রোগব্যাধিতে প্রতিবছরই অনেক লোক মৃত্যুবরণ করত।
নবাব আবদুল গণির দান করা টাকা দিয়ে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিতে গঠিত হলো কমিটি। মিটিংয়ের পর মিটিং হতে থাকে নবাব ও ইংরেজ কর্মকর্তাদের। লেফটেন্যান্ট গভর্নর জর্জ ক্যাম্পবেলের নির্দেশনায় ঢাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহবিষয়ক যেসব চিঠিপত্র চালাচালি হয়েছিল, সেগুলো গেজেট আকারে প্রকাশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত ১৮৭৪ সালে লর্ড নর্থব্রুক ঢাকার ওয়াটার ওয়ার্কস প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করলেন। তবে সেটা ছিল বাস্তব কাজের সূচনামাত্র। পুরো প্রকল্প নির্মাণ ও পাইপের মাধ্যমে ঢাকাবাসীকে বিশুদ্ধ পানি পেতে আরও অন্তত চার বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ঢাকার কমিশনার পিকক ১৮৭৮ সালের এই দিনে দৈনিক দুই লাখ গ্যালন পরিমাণ পানি সরবরাহব্যবস্থার উদ্বোধন করেন। নবাব পরিবারের ব্যয়ের পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল নয় লাখ পাঁচ হাজার ৩৫০ টাকা। এটাই এই অঞ্চলের মানুষের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের প্রথম ঘটনা।
প্রথমে এ কাজে পাইপের দৈর্ঘ্য ছিল চার মাইল আর তা গিয়েছিল তিন দিকে। পানির একটি পাইপলাইন গিয়েছিল মিটফোর্ড হাসপাতাল বা বর্তমান সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের দিকে। এ পথে ছিল চকবাজার ও কোতোয়ালি এলাকা। অন্যটি কোতোয়ালি থেকে লোহারপুল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। নারিন্দা এলাকা ছিল এর আওতাভুক্ত। আর তৃতীয় পানির লাইনটি গিয়েছিল পুরান ঢাকার জেলখানা এলাকায়।


শুরুর চার বছরের মধ্যেই নগরবাসীর মধ্যে সরবরাহ করা পানির চাহিদা বেড়ে যায়। নবাব আহসানউল্লার দানে পরে নবাবপুর থেকে ঠাটারীবাজার হয়ে দিলকুশা পর্যন্ত পানি সরবরাহের জন্য একটি নতুন পাইপলাইন বসানো হয়। এরপর খুব দ্রুততার সঙ্গেই পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহের আওতাধীন এলাকা বেড়ে গিয়ে ১৮৯৩ সালে প্রায় ১৬ মাইল দীর্ঘ পাইপ বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছিল।
উল্লেখ্য, প্রকল্পটি শুরুর সময় ঢাকাবাসীর এই সুবিধাপ্রাপ্তিতে পরবর্তী সময়ে তাদের ওপর কর আরোপ করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা করেছিল নবাব পরিবার। এটি যাতে না হয়, সে জন্য তাঁরা শর্তজুড়ে দিলেন যে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারকারীদের ওপর কর আরোপ করা চলবে না। কিন্তু পানি সরবরাহব্যবস্থা ব্যয়বহুল বলে এ ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে বছরের পর বছর এর পেছনে অর্থ ব্যয় প্রয়োজন।
প্রকল্প সমাপ্তির পরে তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পৌরসভাকে দেওয়ার জন্য বলা হলে পৌরসভা তাদের পর্যাপ্ত অর্থ নেই বলে পানি সরবরাহের পরিবর্তে ঢাকাতে স্কুল অব আর্টসের জন্য টাকা খরচের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু নবাব পরিবার তাতে সম্মতি দেয়নি। নবাব আহসানউল্লাহ জানান, শুধু বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের কাজেই এ টাকা ব্যয় করা যাবে। এই কাজে আরও ৫০ হাজার টাকা তিনি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইংরেজ সরকার ঢাকার নবাবদের জনহিতৈষী কাজে আগ্রহ ও একাগ্রতা দেখে খুবই বিস্মিত হয়েছিল।

One Response to “গণি মিয়ার খেতাব ও বিশুদ্ধ পানি Clean water by Nawab Khwaja Abdul Ghani”


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: