আমিন মোহাম্মদ গ্র“প কোর্ট অব ওয়ার্ডস ও নবাব এস্টেটের হাজার হাজার বিঘা জমি দখল করেছে Amin Mohammad Group grabs Dhaka Nawab estate’s thousands of bighas of land

March 13, 2013

Source: যুগান্তর রিপোর্ট।
77480_1 (1)আমিন মোহাম্মদ গ্র“প আশুলিয়া মডেল টাউন হাউজিং প্রকল্পের নামে নিরীহ গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাজার হাজার কোটি টাকা আÍসাৎ করলেও রহস্যজনক কারণে সরকার নিশ্চুপ। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউকসহ সরকারের সবগুলো প্রতিষ্ঠানই যেন চোখ বন্ধ করে রেখেছে। একটি জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে দেশের হাজার হাজার নিরীহ গ্রাহক চরমভাবে প্রতারিত হলেও কারও যেন কোন দায়িত্ব নেই। তাহলে সবাই কি জেগে ঘুমাচ্ছেন? এসব জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণা দেখার কি কেউ নেই? অভিযোগ উঠেছে, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার বিনিময়ে সবাই ‘ম্যানেজড’। আমিন মোহাম্মদের লোকজনের সঙ্গে রাজউক ও মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পারস্পরিক যোগসাজশের কারণেই তারা রহস্যজনক নীরবতা পালন করে আসছেন। ফলে কেউই এখন আইন প্রয়োগে উৎসাহী নন। হাজার হাজার কোটি টাকা আÍসাৎ ও মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে এখন বাঁচার জন্য আশুলিয়া মডেল টাউন কর্তৃপক্ষ অবৈধ টাকা খরচ করে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে ‘ম্যানেজ’ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। শুরু করেছে জোর তদবির ও লবিং। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের জিজ্ঞাসা, সরকারের উদাসীনতার কারণে দেশের নিরীহ সাধারণ মানুষ কি ঠক ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে বিচার পাবে না? তাহলে তারা যাবে কোথায়? কিন্তু রহস্যজনক বিষয় হচ্ছে, রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভারে প্রকাশ্যে সরকারি খাস, বন বিভাগ ও নবাব এস্টেটের জমি জবরদখল ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিশাল হাউজিং প্রকল্প গড়ে তোলা হলেও সরকার নীরব। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউকও রহস্যজনক আচরণ করছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসক, সাভার উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও অন্যান্য সরকারি সংস্থাও কেন নিশ্চুপ? অবৈধ টাকার কাছে কি সব সংস্থাই ম্যানেজড? এই প্রশ্ন এখন হাজার হাজার প্লট ক্রেতার।
সরকারের এই রহস্যজনক নীরবতার সুযোগে আমিন মোহাম্মদ গ্র“প বন বিভাগ, সরকারি খাস ও ঢাকার নবাব এস্টেটের হাজার হাজার বিঘা জমি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে জবরদখল করে গড়ে তুলেছে এই তথাকথিত হাউজিং প্রকল্প। মিডিয়ায় চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে তারা প্লট বিক্রির নামে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার ক্রেতাকে সর্বস্বান্ত করেছে। রাজউকসহ সরকারের কোন সংস্থার অনুমোদন না থাকলেও অবৈধভাবে গড়ে তোলা এই হাউজিং প্রকল্পের প্লট বিক্রির মাধ্যমে আমিন মোহাম্মদ গ্র“প অবৈধ টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছে। সরকারি সংস্থা ও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা পত্র-পত্রিকায় আশুলিয়া মডেল টাউনের ‘প্লট হস্তান্তর ও রেজিস্ট্রেশন’-এর ভুয়া কথা বলে বিজ্ঞাপন প্রচার করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা আশুলিয়া মডেল টাউন হাউজিং প্রকল্পটি ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান-ড্যাপের আওতায় পড়েছে এবং এই এলাকায় কোন হাউজিংয়ের কোন অনুমতি নেই। এখানে সাধারণ কৃষি জমি, বনাঞ্চল, নিচু জলাধার ও সরকারি খাস জমি রয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি সংস্কার কমিশনের কোর্ট অব ওয়ার্ডস-এর ঢাকার নবাব এস্টেট সূত্র জানায়, এই এলাকার আকরান, খাগান, বিরুলিয়া, দত্তপাড়া ও পাড়াগাঁও মৌজার অধিকাংশ জমিই ঢাকার নবাব এস্টেটের হওয়ায় সেগুলো এখন কোর্ট অব ওয়ার্ডসের সম্পত্তি। আমিন মোহাম্মদ গ্র“পের দখলকৃত ও আশুলিয়া মডেল টাউন নামে হাউজিং প্রকল্পভুক্ত অধিকাংশ জমিই বিতর্কিত। এসব জমি উদ্ধারে কোর্ট অব ওয়ার্ডস নবাব এস্টেট, বন বিভাগ ও এসিল্যান্ড-সাভার মামলা-মোকদ্দমাসহ আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যেই কোর্ট অব ওয়ার্ডস রাজউক, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও সাভার উপজেলা ভূমি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে নবাব এস্টেটের জমি জবরদখল করে আশুলিয়া মডেল টাউন হাউজিং প্রকল্প গড়ে তোলার বিষয়টি জানিয়ে দিয়ে আইনানুগ সহায়তা কামনা করেছে।
সরকারের শীর্ষ মহল থেকে সবাই প্রতারণার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কথা মুখে মুখে প্রচার করলেও কার্যক্ষেত্রে এর কোন প্রতিফলন নেই। ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অনেকেই যুগান্তরে ফোন করে আমিন মোহাম্মদ গ্র“পের প্রতারণার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষ প্রতারিত হলে কি দেখার কেউ নেই? সরকারের কি দেশের অসহায় ও প্রতারণার শিকার নাগরিকদের প্রতি কোন দায়িত্ব নেই?
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে আমিন মোহাম্মদ গ্র“পের লোকজন তাদের প্রতারণা ফাঁস হয়ে যেতে পারে এমন মূল্যবান কাগজ, নথিপত্র, ডকুমেন্ট, দলিল ও পরচা গায়েব করে ফেলেছে। সরকার যদি এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে এখনই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ইতিমধ্যেই আশুলিয়া মডেল টাউনে বুকিং দেয়া অথবা প্লট ক্রয় করা হাজার হাজার মানুষ এখন চোখে-মুখে অন্ধকার দেখতে শুরু করেছেন। তারা আমিন মোহাম্মদ গ্র“পের উত্তরা, ধানমণ্ডি ও মতিঝিল অফিসে ঘোরাঘুরি করেও কোন সুরাহা পাচ্ছেন না। দিন যতই যাচ্ছে, ততই প্রকাশ পাচ্ছে হাউজিং কোম্পানিটির প্রতারণার খবরা-খবর। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, মামলা-মোকদ্দমায় জর্জরিত ও বিতর্কিত জমিতে গড়ে ওঠা আশুলিয়া মডেল টাউন হাউজিং প্রকল্পের লোকজন যেভাবে প্রতারণা শুরু করেছে, তাতে এই মুহূর্তে হাউজিংটি বন্ধ করে দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তা না হলে হাজার হাজার সাধারণ নিরীহ মানুষ পথে বসবে। আর হাজার হাজার কোটি টাকা আÍসাৎকারী আমিন মোহাম্মদ গ্র“পের লোকজন মওকা বুঝে ভুয়া প্রতারক এমএলএম কোম্পানির মতো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: