গোল তালাবই নবাববাড়ি গোলপুকুর

October 8, 2011

আসাদুজ্জামান স্বপ্ন রাজউক বা প্রত্নতত্ত্বের বিভাগের কোনো সাইনবোর্ড না থাকলেও এই পুকুর মালিকানা নিয়ে রয়েছে সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি। উল্লেখ্য, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের প্রথম আপিল নং ৭৬/২০০৭ থেকে উদ্ধৃত সিভিল রুল নম্বর ৬৪৬ (এফ) ২০০৭-এর মৌলভী খাজা আবদুল্লাহ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের আবেদনের পরিপ্রেেিত বিচারপতি এসকে সিনহা ও বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ ঢাকা জেলার কোতোয়ালি থানার সাব-রেজিস্ট্রিতে শহর ঢাকা মৌজার তফসিল বর্ণিত পুকুরের সম্পত্তিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। বর্তমানে গোলপুকুরটি ট্রাস্টের সম্পত্তি ও ট্রাস্টের একক দখলে আছে। তফসিল অনুযায়ী গোলপুকুরের খতিয়ান নম্বর-১১১৯২, তৌজি-৩২৪৮, বিএ দাগ নম্বর-৭১৪। ওই মামলার বিবাদী খাজা আবদুল গনি হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ অমান্য করে তফসিল বর্ণিত গোলপুকুরটি বিক্রি ও ভরাটের পাঁয়তারা করেছেন, যা আদালত অবমাননার শামিল। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এরপরও যদি খাজা আবদুল গনি ওই পুকুর ভরাটের ব্যাপারে কোনো পদপে নেন বা বিক্রির বিষয়ে তার সঙ্গে কেউ আর্থিক লেনদেন করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে তাদের বেআইনি কাজের দায়-দায়িত্ব নিজে বহন করতে হবে এবং তাদের দাবি সর্বআদালতে গ্রহণযোগ্য হবে।
গোলপুকুরের মালিক মৌলভী খাজা আবদুল্লাহ ওয়েলফেয়ার সরকারি গেজেটে প্রকাশিত নাম ইসলামপুরের গোল তালাব। কিন্তু গোল তালাব কী, তা জানে না এবং চেনে না ইসলামপুরবাসী। নবাববাড়ি ফটকের এক ৮০ বছরের বৃদ্ধ জানান, নবাবী আমলে নবাববাড়ি গোলপুকুরকে গোল তালাব বলা হতো। সংরতি ঘোষণা করলেও রাজউক এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এখনো স্থাপন করেনি কোনো সংরণের সরকারি নির্দেশিকা সংবলিত কোনো সাইনবোর্ড।
নবাব আহসান উল্লাহ রোডের পশ্চিম দিকে নবাববাড়ি সংলগ্ন ১ একর ৬০৮০ শতাংশ জমি নিয়ে এই গোলপুকুরের অবস্থান। তিন ফুটের দেয়ালের ওপর লোহার বেষ্টনী দিয়ে পুরো পুকুরের সীমানা প্রাচীর দেওয়া হয়েছে। পুকুরের চারদিকে রয়েছে প্রায় ৫০টি নারিকেলগাছ। স্থানীয় এবং বিভিন্ন এলাকার মানুষ দুই টাকার বিনিময়ে এখানে গোসল করে। তবে পুকুরে মাছ চাষের কারণে কোনো কাপড় ধোয়া ও সাবান-পানি নিষিদ্ধ করেছে এই পুকুরের মালিক মৌলভী খাজা আবদুল্লাহ ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট।
ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ খাজা নাজমুল হক জানান, ট্রাস্টের মালিকানায় পুকুরের সার্বিক উন্নয়নের কাজ চলছে। ঐতিহ্যবাহী পুকুর হিসেবে সরকার সংরতি ঘোষণা করেছে। কিন্তু রাজউক ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: