Savar Tragedy

April 28, 2013

“Inna lillahi wa inna ilaihey rajeoun”

Our hearts and prayers go out to the hundreds of people in Dhaka who lost their lives when a building collapsed in Savar and the families that were affected by this tragedy.

See link: http://www.bbc.co.uk/news/world-asia-22325779

 

Note: Shukr-Al-Humdulillah, all the family members of DNF are safe and have been accounted for.

 

 


আমিন মোহাম্মদ গ্র“প কোর্ট অব ওয়ার্ডস ও নবাব এস্টেটের হাজার হাজার বিঘা জমি দখল করেছে Amin Mohammad Group grabs Dhaka Nawab estate’s thousands of bighas of land

March 13, 2013

Source: যুগান্তর রিপোর্ট।
77480_1 (1)আমিন মোহাম্মদ গ্র“প আশুলিয়া মডেল টাউন হাউজিং প্রকল্পের নামে নিরীহ গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাজার হাজার কোটি টাকা আÍসাৎ করলেও রহস্যজনক কারণে সরকার নিশ্চুপ। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউকসহ সরকারের সবগুলো প্রতিষ্ঠানই যেন চোখ বন্ধ করে রেখেছে। একটি জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে দেশের হাজার হাজার নিরীহ গ্রাহক চরমভাবে প্রতারিত হলেও কারও যেন কোন দায়িত্ব নেই। তাহলে সবাই কি জেগে ঘুমাচ্ছেন? এসব জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণা দেখার কি কেউ নেই? অভিযোগ উঠেছে, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার বিনিময়ে সবাই ‘ম্যানেজড’। আমিন মোহাম্মদের লোকজনের সঙ্গে রাজউক ও মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পারস্পরিক যোগসাজশের কারণেই তারা রহস্যজনক নীরবতা পালন করে আসছেন। ফলে কেউই এখন আইন প্রয়োগে উৎসাহী নন। হাজার হাজার কোটি টাকা আÍসাৎ ও মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে এখন বাঁচার জন্য আশুলিয়া মডেল টাউন কর্তৃপক্ষ অবৈধ টাকা খরচ করে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে ‘ম্যানেজ’ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। শুরু করেছে জোর তদবির ও লবিং। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের জিজ্ঞাসা, সরকারের উদাসীনতার কারণে দেশের নিরীহ সাধারণ মানুষ কি ঠক ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে বিচার পাবে না? তাহলে তারা যাবে কোথায়? কিন্তু রহস্যজনক বিষয় হচ্ছে, রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভারে প্রকাশ্যে সরকারি খাস, বন বিভাগ ও নবাব এস্টেটের জমি জবরদখল ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিশাল হাউজিং প্রকল্প গড়ে তোলা হলেও সরকার নীরব। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউকও রহস্যজনক আচরণ করছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসক, সাভার উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও অন্যান্য সরকারি সংস্থাও কেন নিশ্চুপ? অবৈধ টাকার কাছে কি সব সংস্থাই ম্যানেজড? এই প্রশ্ন এখন হাজার হাজার প্লট ক্রেতার।
সরকারের এই রহস্যজনক নীরবতার সুযোগে আমিন মোহাম্মদ গ্র“প বন বিভাগ, সরকারি খাস ও ঢাকার নবাব এস্টেটের হাজার হাজার বিঘা জমি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে জবরদখল করে গড়ে তুলেছে এই তথাকথিত হাউজিং প্রকল্প। মিডিয়ায় চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে তারা প্লট বিক্রির নামে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার ক্রেতাকে সর্বস্বান্ত করেছে। রাজউকসহ সরকারের কোন সংস্থার অনুমোদন না থাকলেও অবৈধভাবে গড়ে তোলা এই হাউজিং প্রকল্পের প্লট বিক্রির মাধ্যমে আমিন মোহাম্মদ গ্র“প অবৈধ টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছে। সরকারি সংস্থা ও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা পত্র-পত্রিকায় আশুলিয়া মডেল টাউনের ‘প্লট হস্তান্তর ও রেজিস্ট্রেশন’-এর ভুয়া কথা বলে বিজ্ঞাপন প্রচার করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা আশুলিয়া মডেল টাউন হাউজিং প্রকল্পটি ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান-ড্যাপের আওতায় পড়েছে এবং এই এলাকায় কোন হাউজিংয়ের কোন অনুমতি নেই। এখানে সাধারণ কৃষি জমি, বনাঞ্চল, নিচু জলাধার ও সরকারি খাস জমি রয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি সংস্কার কমিশনের কোর্ট অব ওয়ার্ডস-এর ঢাকার নবাব এস্টেট সূত্র জানায়, এই এলাকার আকরান, খাগান, বিরুলিয়া, দত্তপাড়া ও পাড়াগাঁও মৌজার অধিকাংশ জমিই ঢাকার নবাব এস্টেটের হওয়ায় সেগুলো এখন কোর্ট অব ওয়ার্ডসের সম্পত্তি। আমিন মোহাম্মদ গ্র“পের দখলকৃত ও আশুলিয়া মডেল টাউন নামে হাউজিং প্রকল্পভুক্ত অধিকাংশ জমিই বিতর্কিত। এসব জমি উদ্ধারে কোর্ট অব ওয়ার্ডস নবাব এস্টেট, বন বিভাগ ও এসিল্যান্ড-সাভার মামলা-মোকদ্দমাসহ আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যেই কোর্ট অব ওয়ার্ডস রাজউক, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও সাভার উপজেলা ভূমি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে নবাব এস্টেটের জমি জবরদখল করে আশুলিয়া মডেল টাউন হাউজিং প্রকল্প গড়ে তোলার বিষয়টি জানিয়ে দিয়ে আইনানুগ সহায়তা কামনা করেছে।
সরকারের শীর্ষ মহল থেকে সবাই প্রতারণার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কথা মুখে মুখে প্রচার করলেও কার্যক্ষেত্রে এর কোন প্রতিফলন নেই। ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অনেকেই যুগান্তরে ফোন করে আমিন মোহাম্মদ গ্র“পের প্রতারণার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষ প্রতারিত হলে কি দেখার কেউ নেই? সরকারের কি দেশের অসহায় ও প্রতারণার শিকার নাগরিকদের প্রতি কোন দায়িত্ব নেই?
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে আমিন মোহাম্মদ গ্র“পের লোকজন তাদের প্রতারণা ফাঁস হয়ে যেতে পারে এমন মূল্যবান কাগজ, নথিপত্র, ডকুমেন্ট, দলিল ও পরচা গায়েব করে ফেলেছে। সরকার যদি এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে এখনই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ইতিমধ্যেই আশুলিয়া মডেল টাউনে বুকিং দেয়া অথবা প্লট ক্রয় করা হাজার হাজার মানুষ এখন চোখে-মুখে অন্ধকার দেখতে শুরু করেছেন। তারা আমিন মোহাম্মদ গ্র“পের উত্তরা, ধানমণ্ডি ও মতিঝিল অফিসে ঘোরাঘুরি করেও কোন সুরাহা পাচ্ছেন না। দিন যতই যাচ্ছে, ততই প্রকাশ পাচ্ছে হাউজিং কোম্পানিটির প্রতারণার খবরা-খবর। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, মামলা-মোকদ্দমায় জর্জরিত ও বিতর্কিত জমিতে গড়ে ওঠা আশুলিয়া মডেল টাউন হাউজিং প্রকল্পের লোকজন যেভাবে প্রতারণা শুরু করেছে, তাতে এই মুহূর্তে হাউজিংটি বন্ধ করে দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তা না হলে হাজার হাজার সাধারণ নিরীহ মানুষ পথে বসবে। আর হাজার হাজার কোটি টাকা আÍসাৎকারী আমিন মোহাম্মদ গ্র“পের লোকজন মওকা বুঝে ভুয়া প্রতারক এমএলএম কোম্পানির মতো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবে।


ঢাকার প্রথম মুসলিম নারী চিত্রশিল্পী Meher Bano-First muslima painter from Dhaka

March 13, 2013

শামিম আমিনুর রহমান Source: Prothom-Alo  তারিখ: ১০-০৭-২০১১

Meher Bano's painting from Moslem Bharat

                                                                                                      ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় প্রকাশিত মেহের বানু খানমের আঁকা ছবি

ঢাকার নবাবদের নবাবি এখন কিংবদন্তি। সেই বৃটিশ আমলে ভাগ্যের অন্বেষনে সুদুর উত্তর পশ্চিম ভারত থেকে আগত সাধারণ ব্যাবসায়ি থেকে রীতিমত ঢাকার একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে যাওয়া নবাবদের বিলাসিতার অনেক গল্প এখনো শুনতে পাওয়া যায়। অবাক করার মত বিষয় হলো, আমার জন্মভুমি বাংলাদেশ স্বর্ণগর্ভা হলেও, সেই স্বর্ণ তোলার কাজটি তার স্বীয় সন্তানরাই করতে যুগে যুগে ব্যার্থ। ……আবার ডুবো ঘি তে একবার পরোটা ভাজা হলে, সেই ঘি তে দ্বিতীয়বার আর পরোটা ভাজা হলে নবাবরা সেটা খেতেন না। অর্থাৎ প্রতিবার পরোটা ভাজার সময় নতুন ডুবো ঘিতে সেটা ভাজতে হতো। একেই বলে নবাবি চাল। 

নবাবি আমল নেই। তবে নবাবি চালচলন থেকে থাকবে। তবে সেই মাত্রার নবাবির কথা অন্তত স্বাধীন বাংলাদেশে কেউ শুনেছে বলে মনে হয় না। অতীতের সেই নবাবদের স্মৃতি আবার নতুন করে মনে করিয়ে দেবার কৃতিত্ব দেবো মাননীয় অর্থমন্ত্রিকে। কারণ ৩ হাজার কোটি টাকা তার কাছে কিছু না। অন্তত বক্তব্যের মাধ্যমে তিমি সে রকমই বলেছেন।তার পৈতৃক নিবাস ঢাকায় হলে, বিশ্বাস হতো যে তিনি ঢাকার নবাবদের বংশধর। তাই জানতে বড় ইচ্ছে হয় পৈতৃক নিবাস সিলেটে হলেও, তার বংশে কেউ কোনদিন ঢাকার নবাবদের সাথে সম্পৃত্ত ছিল কি না।কারণ একমাত্র নবাবদের পক্ষ্যেই বলা সম্ভব যে কয়েক হাজার কোটি টাকা তেমন কিছু না। 

মোসলেম ভারত পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক আফজালুল হক দুটি ছবি সংগ্রহ করেছেন ঢাকা থেকে। ছবি দুটি এঁকেছেন ঢাকার বিখ্যাত নবাব পরিবারের নওয়াবজাদি মেহের বানু খানম। পত্রিকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ছবি দুটি ছাপবেন তিনি।
ছবি দুটির পরিচিতি লিখে দেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ করলেন কবি কাজী নজরুল ইসলামকে। কবি ছবি দেখে মুগ্ধ। পরিচিতি না লিখে লিখলেন কবিতা। দুটি ছবির একটি তাঁর মনে যে ভাবের জন্ম দেয়, তারই ফসল ‘খেয়াপারের তরণী’ নামের বিখ্যাত কবিতাটি। কবি নজরুলের বন্ধু মুজফ্ফর আহমেদ লিখলেন, ‘এই কবিতাটিকে ঘিরে যে আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তা একান্তভাবে বেগম সাহেবারই।’
একটি ছিল নদী পারাপাররত নৌকার ছবি এবং অন্যটি বিক্রমপুরের একটি গ্রামের দৃশ্য। যেহেতু নজরুল লিখলেন কবিতা, তাই ওই চিত্র দুটির পরিচিতি লেখার দায়িত্ব বর্তাল সেকালের বিখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ এমদাদ আলীর ওপর। বেগম সাহেবার দুটি চিত্র ও নজরুলের কবিতা এবং এমদাদ আলীর চিত্র-পরিচয় নিয়ে ১৯২০ সালের আগস্টে অর্থাৎ বাংলা ১৩২৭ সালের শ্রাবণ মাসে কলকাতায় মোসলেম ভারত-এর আলোচিত সংখ্যাটি বের হলো। নদী পারাপাররত ছবিটি রঙিন এবং অপরটি সাদাকালো। অন্য পাতায় কবির পরিচয় ‘হাবিলদার কাজী নজরুল ইসলাম’ আর তাঁর কবিতা ‘খেয়াপারের তরণী’ ছাপা হলো। ‘যাত্রীরা রাত্তিরে হ’তে এল খেয়া পার,/ বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জ্জেছে কে আবার?/ প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে/ ঝঞ্ঝা ও ঘন দেয়া স্বণিল রে ঈশানে!’ ৩০ লাইনের কবিতাটি এভাবেই শুরু হয়েছিল।
ইমদাদ আলী দুটি ছবি নিয়েই বিস্তারিত লিখলেন, যার কিছুটা উল্লেখ করছি। তিনি লিখেছেন, ‘প্রথম চিত্র: ইহা একখানি ধর্মচিত্র। পাপের নদী উত্তাল তরঙ্গে ছুটিয়া চলিয়াছে। এই নদীতে কান্ডারীহীন গোমরাহীর তরণী আত্মরক্ষা করিতে না পারিয়া আরোহীসহ নিমজ্জিত হইতেছে। তাহার হালের দিকটা মাত্র ডুবিতে বাকি আছে। তাহার উদ্ধারের কোন আশা নাই। কিন্তু যাহারা তাওহিদের তরণীতে আশ্রয় লইয়াছেন, তাহারা বাঁচিয়া আছেন, কারণ এই তরণীর কর্ণধার হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (স.)। তাহার চারি প্রধান আসহাব এই তরণীর বাহক।
‘দ্বিতীয় চিত্র: পল্লী দৃশ্য। বিক্রমপুরের উত্তর দিকে তালতলা একটি বন্দর। এই বন্দরের পূর্ব দিকের যে গ্রামখানি নদী তীরে বিস্তৃত রহিয়াছে, চিত্রে তাহাই অংকিত হইয়াছে।
‘মৃদুল বায়ু হিল্লোলে নদী বুকে যে তরঙ্গের লীলা আরম্ভ হইয়াছে চিত্রে তাহা বড়ই সুন্দর করিয়া অঙ্কিত হইয়াছে। আলো ও ছায়ার সুসমাবেশে উহা কি মনোরমই না দেখাইতেছে।’
প্রায় শত বছর আগে একজন নারীর, তা-ও আবার রক্ষণশীল সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবার থেকে চিত্রশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়া মোটেই সহজ ছিল না। তখন রক্ষণশীল ধ্যানধারণা পোষণের ফলে বিশেষ করে নারীদের সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রটি ছিল রুদ্ধ।
সাধারণ নিয়মানুযায়ী ঢাকার নবাববাড়ির মেয়েদের অন্দরমহলই ছিল একমাত্র ঠিকানা। কিন্তু শিল্প সৃষ্টির প্রেরণা যদি একবার সত্তায় জেগে ওঠে, তবে তাকে অবদমন করা সত্যিই কঠিন। আর তাই রক্ষণশীল পরিবার ও সমাজের বাধা অতিক্রম করে নিজেকে চিত্রশিল্পী হিসেবে প্রকাশ করতে পেরেছিলেন মেহের বানু খানম।
ঢাকার নবাব খাজা আহসানউল্লাহর কন্যা মেহের বানু খানমের (নবাব সলিমুল্লাহর ছোট বোন) মায়ের নাম ছিল কামরুন্নেসা খানম। মেহের বানুর জন্ম কবে, সে বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। লেখক অনুপম হায়াৎ অনুমান করেন, তাঁর জন্ম ১৮৮৫-৮৮ সালের মধ্যে। হায়াৎ তাঁর পুরনো ঢাকার সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ‘তাদের বাড়িতে ছিল দেশ-বিদেশের বহু খ্যাতনামা চিত্র শিল্পীর আঁকা ছবির সংগ্রহ। ছিল অনেক সচিত্র বই-পুস্তক, পত্র-পত্রিকা। তিনি এখান থেকেই অঙ্কন চর্চা শুরু করেন। তবে তাঁর অঙ্কন চর্চায় কখনো কোনো জীবজন্তুর অস্তিত্ব থাকতো না। তিনি সব সময়ই প্রকৃতি ও ইসলামের ধর্মীয় চেতনাকে তাঁর শিল্পসত্তায় ধরে রাখতেন।’
দুঃখজনক বিষয় হলো, মোসলেম ভারত-এ প্রকাশিত ছবি দুটি বাদে মেহের বানুর আঁকা আর কোনো ছবি এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে মেহের বানুর চিত্রাঙ্কনরত অবস্থার একটি আলোকচিত্র পাওয়া যায়। তাতে দেখা যায়, তিনি ইজেলের ওপরের দিকে সেঁটে রাখা একটি চিত্রের অনুকরণে ঠিক নিচেই আরেকটি কাগজে ছবি আঁকছেন। লক্ষ করলে বোঝা যায়, এটি নদীতে একটি নৌকার দৃশ্য। আলোকচিত্রে দৃশ্যমান চিত্রটি এবং প্রকাশিত অন্য চিত্র দুটি বিবেচনা করলে বোঝা যায় যে তিনি ‘ল্যান্ডস্কেপ’ই বেশি আঁকতেন। এই তিনটিই নদীর দৃশ্য। সুতরাং নদী ও নৌকা, সম্ভবত, তাঁর আঁকা ছবিতে বারবার এসে থাকবে। এ সবই অনুমান মাত্র। মেহের বানুর আরও ছবি পাওয়া গেলে তাঁর ছবির বিষয় ও মান সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি হওয়া সম্ভব হবে।
3 Meher Bano painting 1910'sসম্ভবত, ১৯১২-১৩ সাল থেকে মেহের বানু ছবি আঁকা শুরু করেন। মেহের বানুর বিয়ে হয় ২৫ পৌষ ১৩০৮ বাংলা সালে অর্থাৎ ১৯০২ সালে। তাঁর স্বামী খাজা মোহাম্মদ আজম ছিলেন একজন সাহিত্যিক এবং ঢাকার পঞ্চায়েত সরদারদের তত্ত্বাবধায়ক। ঢাকার ওপর একটি উল্লেখযোগ্য বই দ্য পঞ্চায়েত সিসটেম অব ঢাকা তাঁরই লেখা। এ জন্য সংস্কৃতিমনা স্বামীর কাছ থেকে মেহের বানু শিল্পসাধনায় সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।
এই সংস্কৃতিমনা পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের সন্তানেরাও ঢাকার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সেই সময়ে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন। তাঁর এক ছেলে খাজা মোহাম্মদ আদিল ছিলেন ঢাকার বিখ্যাত উর্দু সাহিত্যিক ও জাদু পত্রিকার সম্পাদক। খাজা আদিল ও তাঁর ভাই খাজা আজমলের উদ্যোগে ঢাকায় ১৯২৯-৩১ সালে ঢাকার প্রথম চলচ্চিত্র দ্য লাস্ট কিস ও সুকুমারী নির্মিত হয়। দ্য লাস্ট কিস-এর নায়ক ছিলেন খাজা আজমল নিজেই। 
মেহের বানু খানম ১৯২৫ সালের ৩ অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে দিলখুশা মসজিদের পূর্ব পাশে নবাব পরিবারের কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনিই ঢাকার প্রথম নারী চিত্রশিল্পী।


যাহা বলিবো সত্য বলিবো ১৬ … ঢাকার নবাব, বয়ড়া বিলাস এবং তুই চোর- Is finance minister Muhith from Nawab family?

March 13, 2013

ধীবর Source: Somewhereinblog.net ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ সকাল ১১:০৩

ঢাকার নবাবদের নবাবি এখন কিংবদন্তি। সেই বৃটিশ আমলে ভাগ্যের অন্বেষনে সুদুর উত্তর পশ্চিম ভারত থেকে আগত সাধারণ ব্যাবসায়ি থেকে রীতিমত ঢাকার একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে যাওয়া নবাবদের বিলাসিতার অনেক গল্প এখনো শুনতে পাওয়া যায়। অবাক করার মত বিষয় হলো, আমার জন্মভুমি বাংলাদেশ স্বর্ণগর্ভা হলেও, সেই স্বর্ণ তোলার কাজটি তার স্বীয় সন্তানরাই করতে যুগে যুগে ব্যার্থ। ……আবার ডুবো ঘি তে একবার পরোটা ভাজা হলে, সেই ঘি তে দ্বিতীয়বার আর পরোটা ভাজা হলে নবাবরা সেটা খেতেন না। অর্থাৎ প্রতিবার পরোটা ভাজার সময় নতুন ডুবো ঘিতে সেটা ভাজতে হতো। একেই বলে নবাবি চাল। 

নবাবি আমল নেই। তবে নবাবি চালচলন থেকে থাকবে। তবে সেই মাত্রার নবাবির কথা অন্তত স্বাধীন বাংলাদেশে কেউ শুনেছে বলে মনে হয় না। অতীতের সেই নবাবদের স্মৃতি আবার নতুন করে মনে করিয়ে দেবার কৃতিত্ব দেবো মাননীয় অর্থমন্ত্রিকে। কারণ ৩ হাজার কোটি টাকা তার কাছে কিছু না। অন্তত বক্তব্যের মাধ্যমে তিমি সে রকমই বলেছেন।তার পৈতৃক নিবাস ঢাকায় হলে, বিশ্বাস হতো যে তিনি ঢাকার নবাবদের বংশধর। তাই জানতে বড় ইচ্ছে হয় পৈতৃক নিবাস সিলেটে হলেও, তার বংশে কেউ কোনদিন ঢাকার নবাবদের সাথে সম্পৃত্ত ছিল কি না।কারণ একমাত্র নবাবদের পক্ষ্যেই বলা সম্ভবযে কয়েক হাজার কোটি টাকা তেমন কিছু না

muhit-6-september-2012-2012-09-06__muhith-cartoon-final1                                                                                                                Finance Minister AMA Muhith


গণি মিয়ার খেতাব ও বিশুদ্ধ পানি Clean water by Nawab Khwaja Abdul Ghani

March 13, 2013

শামীম আমিনুর রহমান Source:  Prothom-Alo তারিখ: ২৪-০৫-২০১১

Water Works 1880আজ থেকে ঠিক ১৩৩ বছর আগে, এই দিনে ঢাকা মহানগরে চালু হয়েছিল বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা। ১৮৭৮ সালের ২৪ মে ঢাকার কমিশনার পিকক সাড়ম্বরে এর উদ্বোধন করেন। ঢাকাবাসীর সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য অর্থদানসহ সবিশেষ উদ্যোগ ছিল ঢাকার নবাব পরিবারের।
১৮৭১ সালে নবাব আবদুল গণি পেয়েছিলেন কেসিএমআই (কিং কমান্ডার অব দি অর্ডার অব দ্য স্টার অব ইন্ডিয়া) উপাধি। গণি মিয়া নামেই তিনি এলাকায় খ্যাত। খুশি হয়ে ঢাকাবাসীর জন্য কিছু একটা করার কথা ভাবছিলেন তিনি। উপাধি পাওয়ার আনন্দে ঢাকাবাসীর কল্যাণের জন্য দান করলেন ৫০ হাজার টাকা। উদ্দেশ্য ঢাকাবাসীর জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা। তাঁর এই অর্থের সঙ্গে পুত্র নবাব আহসানউল্লাহ যোগ করলেন আরও ৫০ হাজার টাকা। তবে ঢাকা প্রকাশ সূত্রে জানা যায়, ‘নবাব গণি জলের কলের জন্য ৩ বারে ২০০০০০ টাকা দান করেছিলেন।’ এর আগে ঢাকাবাসীর পানীয় জলের উৎস ছিল শুধু মহল্লার পুকুর বা কুয়া। বিশুদ্ধ পানির অভাবে ঢাকায় উদরাময়, কলেরাসহ নানা রোগব্যাধিতে প্রতিবছরই অনেক লোক মৃত্যুবরণ করত।
নবাব আবদুল গণির দান করা টাকা দিয়ে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিতে গঠিত হলো কমিটি। মিটিংয়ের পর মিটিং হতে থাকে নবাব ও ইংরেজ কর্মকর্তাদের। লেফটেন্যান্ট গভর্নর জর্জ ক্যাম্পবেলের নির্দেশনায় ঢাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহবিষয়ক যেসব চিঠিপত্র চালাচালি হয়েছিল, সেগুলো গেজেট আকারে প্রকাশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত ১৮৭৪ সালে লর্ড নর্থব্রুক ঢাকার ওয়াটার ওয়ার্কস প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করলেন। তবে সেটা ছিল বাস্তব কাজের সূচনামাত্র। পুরো প্রকল্প নির্মাণ ও পাইপের মাধ্যমে ঢাকাবাসীকে বিশুদ্ধ পানি পেতে আরও অন্তত চার বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ঢাকার কমিশনার পিকক ১৮৭৮ সালের এই দিনে দৈনিক দুই লাখ গ্যালন পরিমাণ পানি সরবরাহব্যবস্থার উদ্বোধন করেন। নবাব পরিবারের ব্যয়ের পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল নয় লাখ পাঁচ হাজার ৩৫০ টাকা। এটাই এই অঞ্চলের মানুষের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের প্রথম ঘটনা।
প্রথমে এ কাজে পাইপের দৈর্ঘ্য ছিল চার মাইল আর তা গিয়েছিল তিন দিকে। পানির একটি পাইপলাইন গিয়েছিল মিটফোর্ড হাসপাতাল বা বর্তমান সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের দিকে। এ পথে ছিল চকবাজার ও কোতোয়ালি এলাকা। অন্যটি কোতোয়ালি থেকে লোহারপুল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। নারিন্দা এলাকা ছিল এর আওতাভুক্ত। আর তৃতীয় পানির লাইনটি গিয়েছিল পুরান ঢাকার জেলখানা এলাকায়।


শুরুর চার বছরের মধ্যেই নগরবাসীর মধ্যে সরবরাহ করা পানির চাহিদা বেড়ে যায়। নবাব আহসানউল্লার দানে পরে নবাবপুর থেকে ঠাটারীবাজার হয়ে দিলকুশা পর্যন্ত পানি সরবরাহের জন্য একটি নতুন পাইপলাইন বসানো হয়। এরপর খুব দ্রুততার সঙ্গেই পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহের আওতাধীন এলাকা বেড়ে গিয়ে ১৮৯৩ সালে প্রায় ১৬ মাইল দীর্ঘ পাইপ বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছিল।
উল্লেখ্য, প্রকল্পটি শুরুর সময় ঢাকাবাসীর এই সুবিধাপ্রাপ্তিতে পরবর্তী সময়ে তাদের ওপর কর আরোপ করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা করেছিল নবাব পরিবার। এটি যাতে না হয়, সে জন্য তাঁরা শর্তজুড়ে দিলেন যে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারকারীদের ওপর কর আরোপ করা চলবে না। কিন্তু পানি সরবরাহব্যবস্থা ব্যয়বহুল বলে এ ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে বছরের পর বছর এর পেছনে অর্থ ব্যয় প্রয়োজন।
প্রকল্প সমাপ্তির পরে তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পৌরসভাকে দেওয়ার জন্য বলা হলে পৌরসভা তাদের পর্যাপ্ত অর্থ নেই বলে পানি সরবরাহের পরিবর্তে ঢাকাতে স্কুল অব আর্টসের জন্য টাকা খরচের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু নবাব পরিবার তাতে সম্মতি দেয়নি। নবাব আহসানউল্লাহ জানান, শুধু বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের কাজেই এ টাকা ব্যয় করা যাবে। এই কাজে আরও ৫০ হাজার টাকা তিনি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইংরেজ সরকার ঢাকার নবাবদের জনহিতৈষী কাজে আগ্রহ ও একাগ্রতা দেখে খুবই বিস্মিত হয়েছিল।


সোনালী ব্যাংকের ভল্ট থেকে দরিয়া-ই-নূর উধাও! Dariya e Noor vanished from Sonali Bank’s vault!

March 13, 2013

শাহজাহান আকন্দ শুভ ও গোলাম সাত্তার রনি Source: Dainik Amader ShomoyDECEMBER 17, 2012

…নবাবদের মহামূল্যবান হীরকখণ্ড নিয়ে গবেষক ইতিহাসবিদদের উদ্বেগ…

Dari E Noorনবাবদের মহামূল্যবান হীরকখণ্ড দরিয়া-ই-নূর সোনালী ব্যাংকের ভল্ট থেকে উধাও হয়ে গেছে বলে কোনও-কোনও সূত্র দাবি করেছে। শুধু দরিয়া-ই-নূরই নয়, সোনালী ব্যাংকের ভল্টে থাকা নবাব পরিবারের মহামূল্যবান স্বর্ণালঙ্কারও খোয়া গেছে বলে আশঙ্কা নবাবদের উত্তরসূরি ও প্রত্নসম্পদ গবেষকদের। এ অবস্থায় তারা দরিয়া-ই-নূরসহ ভল্টে থাকা নবাবদের মহামূল্যবান স্বর্ণালঙ্কারের বাস্তব অবস্থা পরীক্ষা-নীরিক্ষা করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

নবাব পরিবার নিয়ে গবেষণা করেছেন এমন একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় সোনালী ব্যাংক থেকে যেভাবে হাজার-হাজার কোটি টাকা লুট করা হয়েছে, তেমনটি দরিয়া-ই-নূরের ক্ষেত্রেও ঘটেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

প্রত্নসম্পদ গবেষকরা বলেন, সারাবিশ্বে বড় আকৃতির দুটি হীরকখণ্ড সবচেয়ে মূল্যবান ও ঐতিহাসিক। এর একটি কোহিনুর, অন্যটি দরিয়া-ই-নূর। কোহিনুর আছে ব্রিটেনের রানির কাছে এবং দরিয়া-ই-নূর ঢাকায় সোনালী ব্যাংকের ভল্টে। বাংলার ইতিহাসের বহু ঘটনার নীরব সাক্ষি এই মহামূল্যবান রত্ন। ‘দরিয়া-ই-নূর’ অর্থ ‘আলোর সাগর’। এটা বাজুবন্ধ আকৃতির। মূল হীরকটির ওজন ২৪ থেকে ২৬ ক্যারেট। পার্শ্ববর্তী প্রতিটি হীরকের ওজন ৬ থেকে ৫ দশমিক ২৫ ক্যারেট। ১১টি হীরকের সর্বমোট ওজন ৭২ থেকে ৭৬ ক্যারেট। কোহিনূর ও দরিয়া-ই-নূর অন্র্লপ্রদেশের কৃষ্ণা নদীর তীরে কোল্লুর খনিতে পাওয়া গিয়েছিল বলে জানা গেছে। সপ্তদশ শতাব্দীতে দরিয়া-ই-নূর অন্র্লপ্রদেশের মারাঠা রাজার কাছ থেকে হায়দরাবাদের নবাবদের পূর্বপুরুষ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় কিনে নেন (যখন বাংলাদেশে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত)। বিভিন্ন হাত ঘুরে অবশেষে এটি পাঞ্জাবের শিখ মহারাজ রণজিত্ সিংহের হাতে পৌঁছে। তার বংশধর শের সিংহ ও নেল সিংহের হাতে এটি ছিল। ১৮৫০ সালে পাঞ্জাব দখলের পর ইংরেজরা কোহিনুরের সঙ্গে দরিয়া-ই-নূরও করায়ত্ত করে। ১৮৫০ সালে প্রদর্শনীর জন্য কোহিনুর ও দরিয়া-ই-নূর ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়। হীরকখণ্ড দুটি মহারানী ভিক্টোরিয়াকে উপহার হিসেবে দেয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। কিন্তু  মহারানী কোহিনুর পছন্দ করলেও দরিয়া-ই-নূর করেননি। তখন হীরকখণ্ডটি বিক্রির জন্য ভারতে ফেরত আনা হয়। ব্রিটিশ-ভারতীয় সরকার ১৮৫২ সালে দরিয়া-ই-নূর নিলামে তুললে ঢাকার ভাগ্যবান জমিদার খাজা আলিমুল্লাহ ৭৫ হাজার টাকায় কেনেন। কিছুদিনের মধ্যেই এর মূল্য দাঁড়ায় কয়েক লাখ টাকা। দরিয়া-ই-নূর ঢাকার নবাবরা সাধারণত আনুষ্ঠানিক পোশাক পরিধানকালে বাজুবন্দ হিসেবে ব্যবহার করতেন। নবাব সলিমুল্লাহর মৃত্যুর পর এটি নবাব এস্টেটের চিফ ম্যানেজারের তত্ত্বাবধানে চলে যায়। এরপর বহুদিন ধরে কলকাতার হ্যামিল্টন অ্যান্ড কোম্পানির হেফাজতে ছিল। প্রতি বছর ফি বাবদ ২৫০ টাকা দিতে হত নবাবদের। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বিভাগীয় কমিশনার এবং রাজস্ব বোর্ডের অনুমতিক্রমে নবাব পরিবারের সদস্য খাজা নসুরুল্লাহর সঙ্গে এস্টেটের ডেপুটি ম্যানেজার বেলায়েত হোসেন কলকাতার হ্যামিল্টন অ্যান্ড কোম্পানির কাছ থেকে ১৯৪৯ সালে ভেলভেট কাপড়ে মোড়ানো বাক্সে ছয়টি রত্নসহ দরিয়া-ই-নূর ঢাকায় নিয়ে আসেন। এরপর ইম্পেরিয়াল ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ঢাকা শাখায় রাখেন।

১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর ঢাকা ইম্পেরিয়াল ব্যাংক বন্ধ হয়ে যায়। তখন ১৯৬৬ সালে দরিয়া-ই-নূর রাখা বাক্সটি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের সদরঘাট শাখায় গচ্ছিত রাখা হয়। ’৭১-এ বাংলাদেশ সৃষ্টির পর ব্যাংকটির নতুন নামকরণ হয় সোনালী ব্যাংক। এর রসিদ এখনও চিফ ম্যানেজার নবাব এস্টেটের কাছে গচ্ছিত থাকার কথা। নানা অব্যবস্থাপনার কারণে জমিদারি আয় কমে গেলে আর্থিক দৈন্যে পড়েন নবাব সলিমুল্লাহ। হাতি, ঘোড়া, উটের বহরসহ স্থাবর-অস্থাবর অনেক সম্পত্তি তিনি বিক্রি করে দেন। তাতেও না কুলালে তিনি ঋণ নেন। ১৯০৮ সালে নবাব সলিমুল্লাহ যখন তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রেখে ইংরেজ সরকারের কাছ থেকে ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঋণ নেন, তখন দরিয়া-ই-নূরের মূল্য ধরা হয়েছিল ৫ লাখ টাকা। ১৯৭৪ সালে জাতীয় জাদুঘর হীরকটি তাদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করে। সে সময় ভূমি মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে প্রায় ৬০ বছর পর এর মূল্য নির্ধারণ করে ৫ লাখ টাকা। কিন্তু জাদুঘর সেটি সংগ্রহ করতে পারেনি। এখনও ব্যাংকের ভল্টেই আছে কিনা, তা কেউ বলতে পারেননি।


সূত্র জানায়, সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে দরিয়া-ই-নূরের গুণগতমান যাচাই, মূল্য নির্ধারণ এবং জাদুঘরে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এজন্য এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তত্কালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করেছিল সরকার। কিন্তু সে কমিটি কোনও ফলপ্রসূ ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এর আগে ১৯৮৫ সালে নবাব পরিবারের ‘বিই’ প্রপার্টির মালিকের পক্ষ থেকে হীরকটির বিশুদ্ধতা যাচাই এবং পরিমাপ গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়। এজন্য উটাহ জেমোলজিক্যাল সার্ভিস কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা পরীক্ষা করে হীরকটির অকৃত্রিম বিশুদ্ধতা পেয়েছিল। কিন্তু এখন মহামূল্যবান হীরকখণ্ডটি সোনালী ব্যাংকের ভল্টে আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে অনেকের মধ্যে।

আহসান মঞ্জিলের কিপার ড. মো. আলমগীর বলেন, ইংল্যান্ডে রাজপরিবার ২০ ডলারের বিনিময়ে কোহিনুর প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করে থাকে। দরিয়া-ই-নূর হীরকটিও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার সঙ্গে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এটি জাতীয় জাদুঘর কিংবা আহসান মঞ্জিলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার সঙ্গে রাখা যেতে পারে।  ড. মো. আলমগীর নবাব পরিবারের অবদানের ওপর গবেষণা করেছেন। তিনি ২০ বছর আগে দরিয়া-ই-নূরের মূল্য ধরেছিলেন ৫২ কোটি টাকা। তিনি বলেন, যখন টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত তখন দরিয়া-ই-নূরের মূল্য ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ওই হিসাব অনুযায়ী এখন চালের প্রতি কেজির মূল্যমান ধরলে দরিয়া-ই-নূরের বর্তমান বাজারমূল্য শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, দুর্লভ বস্তু হওয়ার কারণে এ ধরনের সম্পদ মূল্যায়নের জন্য কোনও বিধিবিধান অথবা মানদণ্ড নেই। তত্কালীন মারওয়ারের রাজা মালদেব কোহিনুর কেনার সময় সম্রাট নাকি বলেছিলেন, এটি ক্রয়-বিক্রয় হয় না। অস্ত্রবলে জয় করা যায়।

নবাব পরিবারের জনকল্যাণমূলক সংস্থা আবদুল্লাহ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল হক বলেন, দরিয়া-ই-নূরসহ সোনালী ব্যাংকের ভল্টে নবাব পরিবারের যেসব স্বর্ণালঙ্কার আছে তার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা; ১৯০৭ সাল থেকে যা রক্ষিত আছে। দরিয়া-ই-নূরসহ নবাবদের এই মহামূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে দর্শনীর বিনিময়ে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাশাপাশি কী পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার গচ্ছিত রয়েছে তার ছবিসহ তালিকা প্রকাশ করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর ঢাকার নবাবদের স্মৃতিগাঁথা আবাসস্থল আহসান মঞ্জিল যখন বস্তিতে রূপান্তর হয়ে নিলামে ওঠার দ্বারপ্রান্তে। সেই নিলাম প্রস্তাবটি ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে উপস্থাপন করা হয়। বঙ্গবন্ধু তখন আহসান মঞ্জিল নিলামে বিক্রির প্রস্তাব নাকচ করেন। ১৯৭৪ সালের ২ নভেম্বর এক আদেশে বঙ্গবন্ধু লেখেন, ‘আহসান মঞ্জিল বিক্রয় করিবার প্রস্তাব দেখিলাম। নিলামের বিক্রয়ের মূল কারণ ঢাকার নবাব পরিবারের সদস্যবৃন্দের কাছ থেকে সরকারের পাওনা আদায় করা ও বিক্রয়লব্ধ টাকার বাকি অংশ তাদের মধ্যে বিতরণ করে তাদের অর্থকষ্ট লাঘব করা। আহসান মঞ্জিলের ঐতিহাসিক মূল্য বিচার করিয়া উহাকে সংরক্ষণ করা সমীচীন বলিয়া মনে হয়। ঢাকার মিউজিয়াম ও পর্যটন কর্পোরেশনের প্রস্তাব দুটি সমন্বিত করিয়া একটি প্রকল্প তৈরি করা যেতে পারে। যার মাধ্যমে আহসান মঞ্জিল বর্তমান অবস্থায় সংরক্ষিত হইতে পারে। উহাকে ভ্রমণকারীদের জন্য আকর্ষণীয় কেন্দ্রে পরিণত করা যাইতে পারে।’ বঙ্গবন্ধুর ওই সিদ্ধান্তের কারণেই আহসান মঞ্জিল নিলামের হাত থেকে রক্ষা পায়। যে ঐতিহাসিক স্থাপনা আজও কালের সাক্ষি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে বুড়িগঙ্গার তীরে।

ইরান সরকারের মালিকানায় ১৮৫ ক্যারেট ওজনের আরেকটি দরিয়া-ই নূর হীরকখণ্ড রয়েছে। সেটি পাওয়া গিয়েছিল অন্র্লপ্রদেশের গোলকণ্ডা খনিতে। ফরাসি অলঙ্কার ব্যবসায়ী ট্যাভেরনিয়র ১৬৪২ সালে ভারত এসে যে গ্রেট ট্যাবল ডায়মন্ড দেখেছিলেন সেটাই ইরানে আছে। ঢাকার নবাব পরিবারের দরিয়া-ই-নূর দক্ষিণ ভারতের খনিতে পাওয়া গেছে বলে কোনও-কোনও ইতিহাসে উল্লেখ আছে।


Once Upon a Time in Dacca by Syed Maqsud Jamil

March 13, 2013

Source: The Daily Star August 31, 2012

……The Dhakaites had their own customs and culture. They were broadly defined along three lines; the Nawab family, the Sukhbas (the comfortably placed) and the Kuttis (the ordinary people). For the Nawabs the language was Urdu, not exactly of Lucknow. The Sukhbas also talked in Urdu in their house, but the language was of their own kind. Many of the Kuttis spoke a highly Bengalicised Urdu while the others spoke a special dialect of Bengali that still mark them out.

The Eid festival has just ended. There were no jazzy shopping malls then, yet Ramadan and Eid brought out the best of fervor and joy from the Dhakaites and the people of Dacca. During Ramadan Qasida (Urdu couplets composed and sung to awaken the faithful for Sehri) competition was held. It was organised by Mirza Abdul Kader, the proprietor of Lion cinema and the head of the 22 Sardars (chieftains) of Dacca. The Sardars of Dacca took special interest in it. The best among the Qasida composers and singers were honored with an attractive cash reward. Most people knew Akram. He had a mellifluous voice. The faithful could not ignore him to get up from bed for sehri. Children were curious to find out how Akram looks. He appeared on Eid day with an aluminium bucket and visited houses. The Eidees dropped into the bucket with great munificence.

It was the custom at that time for every house to send iftar to the local mosque. The faithful used to sit around a dastarkhan (long stretch of white linen to partake of the iftar items). When a child in the family was fasting for the first time, it was a special occasion. The iftar sent to the mosque was special. On the first two days of Eid a mela (fair) was held at Chawk Bazar. It was a special attraction for the children, particularly toy items like a two-wheel carriage with a drum set in the middle and two bamboo sticks beating on it as the carriage was dragged along. There was another item–a toy motor launch with kerosene in it, when put in a basin of water it used to circle around with a sputtering sound. The children used to call it bhotbhoti.

Qawali and to a lesser extent sher-shairis were the cultural pastime of Dacca. Qawali was patronized by the elite of Dacca. The patrons and the enthusiasts showered the Qawals for every effusion of love for the Prophet (PBUM) with bountiful cash encouragement. Sher-shairiwas popular with the Nawab family and the upcountry residents.

And the 30th of Poush was Poush Sangkranti, the day of kite flying. The flamboyant kite flyers gathered at Maidans or on the roof top with the colourful ghuddis (kites) and impressive natais (the wheels). The notables turned out in white kurtaand lungi with red vest inside and a golden chain dangling from the neck. They were watched with awe. They used the most expensive tough yarn of ’Hazar gazi’ brand. And the lesser ones used the medium priced belcha (spade) brand. The sky of Dacca was littered with flying kites.

Another occasion was the circumcision of the boys and kan chedais (piercing the ear lobes) of the girls. The boys and girls were sent for a ride of the town in an open horse-driven carriage. The Hazzam (the one who severed the foreskin) was given a lungi, one and a quarter kilo rice handful of turmeric and Rs 10 on a bamboo tray draped with a red coverlet and the matronly lady who performed the kan chedai was given a saree and some other item. Onlookers asked “kaunbari ka”(from which house)?

When marriage proposal was sent for a lady of Sukhbas family, the family that proposed sent sweet meats and other traditional food items by a train of carriers, the items draped with silk coverlet. Onlookers talked that ‘shadi ka paigam jaa raha‘ (a marriage proposal is on the way). The visiting family members scanned the grace of the lady with observant attention, like how long were her tresses, how even were the set of teeth, how the eyes were set, how slender were the hands and how elegant was the gait of the lady etc. It was a rigorous trial. The bride’s family responded with raunchy description of the members of the bridegroom’s family. The barbs were launched mostly at the eldest and the youngest sister and of all at the father-in-law with a big paunch.

The lady that shed tears on the shoulder of her father during vidayee (farewell) was once the ladli, the darling of the house. That was the age of innocence she was a tender flower in bloom, giggling to fill the house with happiness. There were no cares to clutter her mind. It was an age of guria ki shadi (wedding of the doll), jhutmut ki khana pakana (mock preparation of food).

Childhood is a roller coaster drive. One quarrel and there is katti fuming and sulking–the dolls were taken back. But friendship smiled, when the sun came out of the clouds, and life went by once upon a time in Dacca.


Revisiting our glorious past by Tasnim Jara

March 13, 2013

Source: The Daily Star Wednesday, January 30, 2013

Back-to-back visits to the Lalbagh Fort and Ahsan Manzil on consecutive days right at the beginning of the New Year were refreshing as well as enlightening. We saw the stateliness and the splendour of the lifestyle of the past Nawabs of Bengal. Among other things, we wondered how the soldiers moved about donning the iron-clad coat of arms. The weapons, utensils, pieces of furniture and all the other artefacts literally took us back in time. The phrase ‘As if history unfolded before our very eyes’, often used in the essay of ‘A Visit to a Place of Historical Interest’ actually materialised before us.

The disconcerting aspect of visits, however, was the way history was being preserved and placed before the world. Many places were sealed off. I am sure; more of the history of our proud past could be put forward. There was hardly any docent and even if there were, all they would do was to walk with us and warn us not to take pictures. The places were littered and they were being treated more as just an open space or a park to spend some time in, than make the visitors to revisit the magnificent part of history that they are. We have no dearth of historians who can help in the proper preservation and in putting up a fitting portrayal of these places, as they truly deserve. It is high time we gave due importance to the past that we should be proud of.


Old images from a long-ago war by Syed Badrul Ahsan

February 22, 2013

The Daily Star -March 28 2012

……Beginning in April 1971, the Bengali resistance to the Pakistan occupation army Mukti Bahini would be swelled by increasing numbers of Bengali deserters from the Pakistan armed forces as well as the police and East Pakistan Rifles. But the bulk of Mukti Bahini strength throughout the weeks and months to liberation would come from Bengali youths in the villages and district towns of the occupied country.

……There were many others who, while trying to cross over to India from West Pakistan, were detected by Pakistan’s border forces and placed under arrest. ….…….The War of Liberation turned out to be an inclusive affair that united Bengalis across the spectrum and beyond the confines of the occupied country. …..Bengali diplomats in Pakistani embassies abroad began to defect to the independence cause within days of the crackdown and the declaration of independence…….

With Sheikh Mujib & Zhou En Lai

K.M.Kaiser (Right) with Sheikh Mujib and Zhou En Lai

In China, Khwaja Mohammad Kaiser, who belonged to the Nawab family of old Dhaka, faced a particular dilemma. He was Pakistan’s trusted envoy in Beijing and highly regarded by the Chinese authorities. Clearly inclined to identify with the Bengali cause, he was unable to find the means to do it, given particularly the vocal support China was giving Pakistan over the Bangladesh crisis. It was for Premier Zhou En-lai to advise him to carry on as best he could, a job he fulfilled till the end. In later years, Kaiser was to go back to Beijing, this time to serve as Bangladesh’s ambassador in a country where he had for a long time upheld the interests of Pakistan.

Khwaja WasiuddinWithin West Pakistan, a very large number of Bengali military as well as civilian officers were stranded as a result of the war. In the case of the military personnel, the authorities exercised particular measures to prevent them from escaping or acting in a way that could recreate the sense of crisis caused by the Matiur Rahman affair. The most senior officer in the army was again a man with roots in East Pakistan. Khwaja Wasiuddin, a son of Ayub Khan’s minister for information Khwaja Shahabuddin, served as a lieutenant general in the Pakistan army. Respected by his Pakistani colleagues, nevertheless during the entire duration of the war, he remained deprived of any specific responsibility. He was repatriated to Bangladesh after the war and honourably retired from the army. The government sent him off to Kuwait as the new country’s ambassador.

Click here to read the full article                                                                                                                                                                                                            
                                                                                                                                                                                                                                                                

A Good Story by Ihtisham Kabir

February 22, 2013

The Daily Star – September 1 2012

story

Stories at Ekushey Book Fair. Photo: Ihtisham Kabir

Who doesn’t love a good story? Some of the earliest stories I enjoyed were long but exciting tales of prophets, kings and villains. My great-
grandmother, whom I called Biamma, told them to me and other children gathered around her. Like Scheherezade, she held us spellbound night after night, breaking off at tense junctures to ensure we returned to her the next day.

Biamma, who had married into the family from Dhaka’s Nawab Bari, was an extraordinary woman. She was over seventy, but her memory never faltered during her storytelling. With her long white hair she was a picture of grace.

She read voraciously. It is said that when she ran out of books to read, she went around the house looking for children’s textbooks.

Her brand of verbal storytelling, called Kissa, has almost disappeared from our culture. Our children multitask their way through life with smartphones, ipads and tablets while wrestling gargantuan homework assignments; few have time to listen to long stories……….

Click here to read the complete article


Follow

Get every new post delivered to your Inbox.